এআই প্রযুক্তিতে সাংবাদিকের ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার: সিলেটে মামলা, তদন্তে সিআইডি

প্রকাশিত: 11:44 AM, April 20, 2026

এআই প্রযুক্তিতে সাংবাদিকের ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার: সিলেটে মামলা, তদন্তে সিআইডি

​সিলেটের প্রবীণ ফটো সাংবাদিক ও এসএ টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট বদরুর রহমান বাবরের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আজ সোমবার সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনার সত্যতা ও কারিগরি দিক নিবিড়ভাবে তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ প্রদান করেছেন।

​মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় যে, গত ১১ এপ্রিল সিলেট নগরীর উত্তর বালুচর এলাকায় অবৈধভাবে টিলা কাটার একটি সচিত্র প্রতিবেদন এসএ টিভিতে প্রচার করেন সাংবাদিক বাবর। এই সংবাদের জেরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরস্পর যোগসাজশে আধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাদীর আপত্তিকর ও অশ্লীল ছবি তৈরি করে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে ছড়িয়ে দেয়।

​উক্ত মামলায় ৫ জন নামধারী ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিরা হলেন উত্তর বালুচর জোনাকী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জালাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর মিয়া, শাকিল আহমদ, আহমদ ইউসুফ ওরফে ইউসুফ আলী ও শাহিন মিয়া। এছাড়া অপপ্রচারে ব্যবহৃত ‘মা তালুকদার’, ‘ব্যাটারী গল্লি’, ‘সিলেট বালুচরের নিউজ’, ‘প্রিন্স মাসুদ এজ’, ‘তরা সব কটি দালাল’ এবং ‘ন্যায় বার্তা’ নামক ফেসবুক পেজগুলোর পরিচালকদেরও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

​বাদীর আইনজীবী মুহাম্মদ তাজউদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান যে, আসামিরা ডিজিটাল প্রযুক্তির চরম অপব্যবহার করে একজন পেশাদার সাংবাদিকের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালিয়েছে, যা সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৩-এর অধীনে একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আদালত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সিআইডিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।ভুক্তভোগী সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবর তার প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, দীর্ঘ ২৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে যেভাবে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে তা অকল্পনীয়। তিনি এই ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকা মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন যেন ভবিষ্যতে কেউ ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এমন নোংরামি করার সাহস না পায়। আজ শুনানি শেষে সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব অর্পণ করে।

সর্বশেষ সংবাদ